মহাকবি হোমারের হেক্টরকে আমরা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হিসেবে দেখি। বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় উক্ত চরিত্রটি কার প্রতিনিধিত্ব করে?

Updated: 1 year ago
  • রামচন্দ্র
  • মেঘনাদ
  • রাবণ
  • বিভীষণ
811
ব্যাখ্যাঃ

মহাকবি হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়াড'-এর হেক্টর চরিত্রটি ট্রয় নগরীর একজন নির্ভীক, দেশপ্রেমিক ও বীর যোদ্ধার প্রতীক। তিনি নিজের দেশ ও জাতির সম্মান রক্ষার্থে নির্ভয়ে যুদ্ধ করেন এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন। হেক্টর হলেন একজন আদর্শবাদী ও দায়িত্বপরায়ণ যোদ্ধা, যিনি পারিবারিক ও জাতীয় কর্তব্যের প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিত ছিলেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' অংশে মেঘনাদ চরিত্রটির মধ্যে হেক্টরের এই দেশপ্রেম, বীরত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। মেঘনাদ নিজের মাতৃভূমি লঙ্কাকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। তিনি তার পিতা রাবণ এবং লঙ্কার সম্মান রক্ষার্থে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত যুদ্ধ করেন। হেক্টরের মতোই মেঘনাদও একজন ট্র্যাজিক হিরো, যিনি প্রবল প্রতিকূলতার মুখেও নিজ দায়িত্ব ও দেশপ্রেম থেকে বিচ্যুত হননি। কবিতার প্রেক্ষাপটে মেঘনাদের সংলাপ ও আচরণে হেক্টরের অনুরূপ দেশপ্রেমিক ও বীরসত্তার প্রকাশ ঘটে।

অন্যান্য অপশনগুলো এই তুলনার জন্য সঠিক নয়:

  • রামচন্দ্র: তিনি ধর্ম ও ন্যায়ের প্রতীক, যিনি অন্যায়কারী রাবণকে শাস্তি দিতে এসেছেন। তার চরিত্র হেক্টরের সাথে দেশপ্রেমিক যোদ্ধা হিসেবে তুলনাযোগ্য নয়।
  • রাবণ: তিনি মেঘনাদের পিতা এবং লঙ্কার রাজা হলেও, তার অহংকার ও সীতা হরণের কারণে তাকে ইতিবাচক দেশপ্রেমিক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি, বরং তিনি নৈতিক স্খলনের প্রতীক।
  • বিভীষণ: মেঘনাদের চোখে তিনি একজন বিশ্বাসঘাতক, যিনি নিজের ভাই ও দেশকে ছেড়ে শত্রুপক্ষে যোগ দিয়েছেন। তাই তার চরিত্র হেক্টরের দেশপ্রেমের সম্পূর্ণ বিপরীত।

সুতরাং, হোমারের হেক্টর চরিত্রটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় মেঘনাদের প্রতিনিধিত্ব করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago


“এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে-
“জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল
 রক্ষঃপুরে! হায়, তাত, উচিত কি তব
 এ কাজ, নিকষা সতী তোমার জননী,
 সহোদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলিশম্ভুনিভ
 কুম্ভকর্ণ? ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী! 
নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে?
 চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে?
 কিন্তু নাহি গঞ্জি তোমা, গুরু জন তুমি
 পিতৃতুল্য। ছাড় দ্বার, যাব অস্ত্রাগারে,
পাঠাইব রামানুজে শমন-ভবনে,
লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে।”
উত্তরিলা বিভীষণ, “বৃথা এ সাধনা,
ধীমান্! রাঘবদাস আমি; কী প্রকারে
 তাঁহার বিপক্ষ কাজ করিব, রক্ষিতে 
অনুরোধ?” উত্তরিলা কাতরে রাবণি;-
“হে পিতৃব্য, তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে!
 রাঘবের দাস তুমি? কেমনে ও মুখে
 আনিলে এ কথা, তাত, কহ তা দাসেরে ! 
স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে;
 পড়ি কি ভূতলে শশী যান গড়াগড়ি
 ধূলায়? হে রক্ষোরথি, ভুলিলে কেমনে
 কে তুমি? জনম তব কোন মহাকুলে?
 কে বা সে অধম রাম? স্বচ্ছ সরোবরে 
করে কেলি রাজহংস পঙ্কজ-কাননে; 
যায় কি সে কভু, প্ৰভু, পঙ্কিল সলিলে,
 শৈবালদলের ধাম? মৃগেন্দ্র কেশরী,
 কবে, হে বীরকেশরী, সম্ভাষে শৃগালে 
মিত্রভাবে? অজ্ঞ দাস, বিজ্ঞতম তুমি,
 অবিদিত নহে কিছু তোমার চরণে ।
 ক্ষুদ্রমতি নর, শূর, লক্ষ্মণ; নহিলে 
অস্ত্রহীন যোধে কি সে সম্বোধে সংগ্রামে? 
কহ, মহারথী, এ কি মহারথীপ্রথা ?
 নাহি শিশু লঙ্কাপুরে, শুনি না হাসিবে
 এ কথা! ছাড়হ পথ; আসিব ফিরিয়া
 এখনি! দেখিব আজি, কোন্ দেববলে,
 বিমুখে সমরে মোরে সৌমিত্রি কুমতি! 
দেব-দৈত্য-নর-রণে, স্বচক্ষে দেখেছ, 
রক্ষঃশ্রেষ্ঠ, পরাক্রম দাসের! কী দেখি 
ডরিবে এ দাস হেন দুর্বল মানবে?
নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রগভে পশিল 
দম্ভী; আজ্ঞা কর দাসে, শাস্তি নরাধমে । 
তব জন্মপুরে, তাত, পদার্পণ করে
বনবাসী! হে বিধাতঃ, নন্দন-কাননে
 ভ্রমে দুরাচার দৈত্য? প্ৰফুল্ল কমলে
 কীটবাস? কহ তাত, সহিব কেমনে 
হেন অপমান আমি,— ভ্রাতৃ-পুত্র তব?
 তুমিও, হে রক্ষোমণি, সহিছ কেমনে?”
 মহামন্ত্র-বলে যথা নম্রশিরঃ ফণী, 
মলিনবদন লাজে, উত্তরিলা রথী
রাবণ-অনুজ, লক্ষি রাবণ-আত্মজে;
“নহি দোষী আমি, বৎস; বৃথা ভর্ৎস মোরে 
তুমি! নিজ কর্ম-দোষে, হায়, মজাইলা 
এ কনক-লঙ্কা রাজা, মজিলা আপনি! 
বিরত সতত পাপে দেবকুল; এবে 
পাপপূর্ণ লঙ্কাপুরী; প্রলয়ে যেমতি 
বসুধা, ডুবিছে লঙ্কা এ কালসলিলে !
 রাঘবের পদাশ্রয়ে রক্ষার্থে আশ্রয়ী 
তেঁই আমি । পরদোষে কে চাহে মজিতে?”
 রুষিলা বাসবত্রাস। গম্ভীরে যেমতি 
নিশীথে অম্বরে মন্দ্রে জীমূতেন্দ্ৰ কোপি, 
কহিলা বীরেন্দ্র বলী,—“ধর্মপথগামী, 
হে রাক্ষসরাজানুজ, বিখ্যাত জগতে 
তুমি; – কোন্ ধর্ম মতে, কহ দাসে, শুনি,
 জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব, জাতি,—এ সকলে দিলা 
জলাঞ্জলি? শাস্ত্রে বলে, গুণবান্ যদি 
পরজন, গুণহীন স্বজন, তথাপি 
নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা! 
এ শিক্ষা, হে রক্ষোবর, কোথায় শিখিলে? 
কিন্তু বৃথা গঞ্জি তোমা! হেন সহবাসে,
 হে পিতৃব্য, বর্বরতা কেন না শিখিবে ? 
গতি যার নীচ সহ, নীচ সে দুর্মতি।” 
[নির্বাচিত অংশ]


 

Related Question

View All
  • রাবণের পুত্র মেঘনাদকে
  • রাবণের অনুজ বিভীষণকে
  • রাবণের মধ্যম সহোদর কুম্ভকর্ণকে
  • উপরের সবগুলোই অশুদ্ধ
97
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই